কর্মমুখী শিক্ষা

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড । শিক্ষা মানুষকে আলাের পথ দেখায় । শিক্ষা কুসংস্কার দূর করে , মানুষে মানুষে সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে । সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করে শিক্ষা । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মেধার বিকাশ ঘটানাে সম্ভব । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চিন্ত্রে বিকাশ ঘটে । তবে শুধু চিরে বিকাশ ঘটালেই চলবে না , শিক্ষাকে অবশ্যই কর্মমুখী হতে হবে । সামর্থ্য ও দক্ষতা অর্জনে শিক্ষা সফকে বনি ইবনে প্রয়োজনে কাজে লাগানাে সব না হয় তাহলে শিক্ষার কোনাে গুরুত্ব থাকে না । তাই আমাদের শিক্ষা এমন হতে হবে , যা দর সকষ্টে অর্জনের পাশাপাশি উপার্জন করা যায় । তাই বর্তমান যুগে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে ।

কর্মমুখী শিক্ষা

কর্মমুখী শিক্ষা

কর্মমুখী শিক্ষা বলতে সেই শিক্ষাকে বােঝায় , যে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষ নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে হাতে – কলমে শিক্ষা ত করে জবকা উপার্জনের যােগ্যতা অর্জন করে । আবার অন্যভাবে বলা যায় , জীবিকা অর্জনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য পেশাগত কর্মের সঙ্গে সম্পর্ক শিক্ষাই কর্মমুখী শিক্ষা । শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি । কিন্তু বর্তমান যুগের শিক্ষাব্যবস্থা কে সমরসমানে জাতে পারছে না । তাই আমাদের দেশে দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে ।

অতীত দিনের কর্মমুখী শিক্ষা

অতীতকালে মানুষের ঝোঁক ছিল অর্থের প্রতি । তখন মানুষ অর্থ উপার্জনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা গ্রহণ ত । তাই মুখী শিক্ষাই ছিল সেসময়ের আর্থিক নিশ্চয়তার উৎস । তাই সমাজ ছিল সতত কর্মমুখর । মানুষের উপার্জন ভালাে ছিল বলে তাদের জীবন ছিল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ । প্রতিটি পরিবারে ছিল আর্থিক সচ্ছলতা । কারণ সেসময় সকলেই পুরুষানুক্রমে অনুশীলনের মাধ্যমে গুণগত দক্ষতা লাভ করত । তখন প্রতিটি পরিবারই ছিল কর্মমুখী শিক্ষার এক অসামান্য প্রতিষ্ঠান । কর্মমুখী শিক্ষাই ছিল জীবিকা উপার্জনের অন্যতম পথ । কিন্তু কালে কালে এ শিক্ষার অবসান ঘটায় মানুষের মধ্যে দারিদ্র্য এবং সমাজে নেমে আসে স্থবিরতা ।

কর্মমুখী শিক্ষার প্রকারভেদ

কর্মমুখী শিক্ষার নির্দিষ্ট কোনাে প্রকার নেই । এই শিক্ষা নানা রকম হতে পারে । যেমন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কেউ ডাক্তার , কেউ উকিল আর কেউবা শিক্ষাবিদ হয় । তাদের চাকরির আশায় বসে ম— কুটির শিল্প , মৎস্য চাষ , হাঁস – মুরগি পালন , দর্জি – কাজ , ছাপাখানার কাজ , কাঠমিস্ত্রির কাজ , নার্সারি , বই বাঁধাই , বিদ্যুতের ১২০৯ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ – দ্বাদশ শ্রেণি থাকতে হয় না । তারা স্বাধীন পেশায় নিয়ােজিত হয়ে স্বাধীনভাবে উপার্জন করতে পারে । বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রী অর্জন ছাড়া , সাধারণ কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা লাভ করা যায় । এ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলে উপার্জন নিয়ে কারাে তেমন ভাবতে হয় না । কাজ ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য ।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা

যতই দিন যাচ্ছে ততই সবকিছুতে পরিবর্তন হচ্ছে । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষারও পরিবর্তন হচ্ছে । উন্নত হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি । আধুনিক বিশ্বে বেঁচে থাকার জন্য নানা কৌশল আবিষ্কৃত হচ্ছে । অথচ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পিছিয়ে যাচ্ছে । সভ্যতা – সংস্কৃতি , ব্যবসা – বাণিজ্য , জীবনযাত্রায় ক্রমেই আমরা পিছিয়ে পড়ছি । বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত আমাদের দেশের যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না , পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছে না । তাছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম , উপযুক্ত কারিগরি শিক্ষা নেই । ফলে শিক্ষার্থীদের একাংশ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেও বাকিরা মাঝপথে ঝরে পড়ে । আর শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে বেকার জীবনযাপন করে । বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের মেধা , শ্রম এবং সময়ের অপব্যবহার করে । ফলে দিন দিন বেকারত্বের সমস্যা বাড়ছে ।

কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা

কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা অনেক বেশি । বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ শিক্ষাকে কাজে লাগানাে যায় । একজন শিক্ষার্থী কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণের পর তাকে আর চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না । সে স্বাধীন মতাে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে । এতে বেকারত্ব যেমন কমে , তেমনি অর্থনৈতিক সমস্যাও দূর হয় । বেকারত্ব আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় অভিশাপ । কর্মমুখী শিক্ষা আমাদের দেশকে এ অভিশাপ হতে মুক্ত করতে পারে । দেশের দারিদ্র্য বিমােচনে , দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে কর্মমুখী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে । কর্মমুখী শিক্ষাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষ সমৃদ্ধ জীবন ও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে পারে । তাই আমাদের জীবনে কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য । আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ও বাস্তব রূপায়ণ দরকার । এ শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা এবং দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব । তাই কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম ।


কর্মমুখী শিক্ষার বর্তমান অবস্থা

কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা বেকার সমস্যা দূর করতে পারি । কিন্তু কমমুখা শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ আজও আমরা সৃষ্টি করতে পারিনি । এ বিষয়ে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি । উন্নত দেশের অধিকাংশ মানুষ কারিগরি , প্রকৌশল , ভােকেশনাল ইত্যাদি শিক্ষায় শিক্ষিত । কিন্তু বাংলাদেশে এ শিক্ষার তেমন কোনাে গুরুত্ব নেই । অন্যান্য দেশে ৫-৬ শতাংশ জনগণ কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত । সেই তুলনায় বাংলাদেশে মােট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশেরও কম জনগণ কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত । তাই আমাদেরকে এ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে ।

Leave a Reply