খেলাধুলার প্রয়োজনীতা

শরীর ভালো  তো  মন ভালো , মন ভালো  তো  শরীর ভালো । শরীর ও মনের যৌথ বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করে এক মানুষের অনাগত ভবিষ্যৎ , নির্ভর করে তার সফলতা , ব্যর্থতা , আনন্দ – বেদনা ও সুখ – দুঃখের গতি । মানুষের শরীর ও মন অন্যতম উৎস হলো খেলাধুলা । দেহ মন গঠনে সহায়তা করে খেলাধুলা । খেলাধুলার মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় নিজেকে যেমন সারাবিশ্বে তুলে ধরে , তেমনি নিজের দেশকেও বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় , দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনে । দেহ ও মনকে সুস্থ ও সবল রাখতে খেলাধুলার কোনো  বিকল্প নেই । তাই আমাদের জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম । খেলাধুলার উদ্ভব । খেলাধুলার সর্ব প্রথম উদ্ভব হয় ইরাকে । খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ বছরেরও আগে ইরাকে কুস্তি খেলার মাধ্যমে খেলাধুল সূচনা হয় ।

খেলাধুলার প্রয়োজনীতা

তবে ধারণা খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ বছরের আরও আগে মুষ্টিযুদ্ধ , অসিযুদ্ধ , দৌড় , ঝাপ ইত্যাদি খেলার সূচনা হয়েছিল । ডালকুত্তা নিয়ে শিকার খেলা চলত প্রাচীন মিশরে । প্রাচীন গ্রিসে খ্রিষ্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে অলিম্পিক খেলার সূচনা হয় । বিভিন্ন ইভেদে বিশাল আয়োজন করা হয় । গ্রিসের শ্রেষ্ঠ ক্রিড়াবিদরা মুষ্টিযুদ্ধ , মল্লযুদ্ধ , দৌড় – ঝাপ , চাকতি নিক্ষেপ ইত্যাদি ইভেন্টে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন । তাছাড়া প্রাচীন রোমে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০ বছর আগে মল্লযুদ্ধ খেলার আয়োজন করা হয় । পরবর্তীকালে খেলার জগতে ক্রিকেট , ফুটবল , সাঁতার , নৌকাবাইচ , পোলো , বক্সিং , স্কেটিংসহ নানা খেলার উদ্ভব হয়েছে

নতুন খেলার খেলাধুলার প্রয়োজনীতা বা গুরুত্ব

 মন ভালো না থাকলে যেমন দেহ অচল , দেহ অসুস্থ থাকলে তেমনই মন অচল । সুতরাং বুঝা যাচ্ছে দেহ – মন দুটিই দুটির সাথে জড়িত । সুতরাং দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা আমাদের কর্তব্য । আর দেহ ও মনকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজন খেলাধুলা । খেলাধুলাই পারে মানুষের মনকে প্রফুল্ল রাখতে । মানুষ যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য খেলাধুলা করে আসছে । খেলাধুলা মানুষের শরীরের কোষগুলোকে পুষ্টিসমৃদ্ধ করে , রক্ত চলাচল সহজ ও স্বাভাবিক রাখে । পরিপাক যন্ত্রকে কর্মক্ষম রাখে । খেলাধুলা শারীরিক ক্লান্তি দূর করে , মানসিক দুশ্চিন্তা দূর করে , মনকে রাখে আনন্দমুখর ও প্রফুল । প্রতিটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন খেলাধুলা । খেলাধুলার মাধ্যমে ঐক্যের বন্ধন মজবুত হয় । এক জন খেলোয়ার দেশ ও জাতিকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয় । শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে চাপমুক্ত রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য । সুশৃখল জীবন গঠনেও খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ।

বিনোদন হিসেবে খেলাধুলা

মানুষের জীবনকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে বিনোদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । আর খেলাধুলা হলো  সবচেয়ে বড় বিনোদন । কেননা খেলাধুলায় আছে নির্মল আনন্দ । সর্বক্ষণ বসে থাকলে মানুষের মস্তিষ্ক অলস হয়ে যায় , আবার সর্বক্ষণ কাজ করলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে । তাই মস্তিষ্ককে সচল ও স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন খেলাধুলা । বিনোদন , বিশ্রাম , আনন্দ ইত্যাদির উৎসস্থল খেলাধুলা । খেলাধুলা মানুষের মনকে সর্বক্ষণ উজ্জীবিত রাখে । মানসিক ও দৈহিক বিকাশ ঘটাতে খেলাধুলার ভূমিকা অনস্বীকার্য । মানসিক উন্নয়নে খেলাধুলা অপরিষীম ।  খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক উন্নয়ন সম্ভব । যারা খেলাধুলা করে তাদের মস্তিষ্ক সব সময় সচল থাকে ও মানসিক অবস্থারও উন্নতি হয় । যারা ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা করে তাদের মন থাকে উচ্ছল ও আনন্দমুখর । যারা খেলাধুলা না করে ঘরে বন্দি অবস্থায় থাকে তারা অনেক সময় পাগল হয়ে যায় , কেউ কেউ সামাজিক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে , আবার কেউ কেউ পড়ালেখায় উন্নতি করতে পারে না , আবার কেউ বা অভিমানী , অস্থির ও বদমেজাজি হয় । তাই সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন খেলাধুলা । এর ফলে জীবনে সুখ – সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় , চেতনার  সমৃদ্ধি পায়। খেলোয়াড়দের স্লোগান দেয় । এভাবে হল – বিজয়  দলগুলো অনুপ্রাণিত হয় । তাই প্রতিটি দেশে খেলাধুলাকেরুত্ব দেওয়া হয় ।

চক্র পূহনে খেলাধুলা

খেলাধুলা আমাদেরকে অকৃত্রিম আনন্দ দেয় । আমাদের কাছে অনাবিল আনন্দের উত্য খেলাধুলা । এই অন্দই শুয়ে শীত , মন , চরিত্র গঠনে সহায়তা করে । এই চরিত্রে মতে জীবনের সফলতা বিরাজ করে । একজন দলপতির নর্দেশে খেলভ ৷ মই খেলতে নামে । খেলার সব নিয়ম – কানুন মেনে দুই দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রস্তুতে নদিষ্ট সময়ে মাঠে খেলে । অক্রিম আনন্দের উৎস খেলাধুলা আমাদেরকে অকৃত্রিম আনন্দ দেয় , নির্মল উচ্ছাসে আমাদের প্রাণ ভরিয়ে দেয়।কর্ম ছাড়া হক তবে একত্রে কাজে লেগে থাকলেও জীবন বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়ে , যান্ত্রিক হয়ে পড়ে । এই কাজে আবদ্ধ কক ভালো লাগে না , তাই কাজের সাথে আনন্দ থাকা চাই । খেলাধুলাই হচ্ছে সেই আনন্দের  । খেলাধুলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ্রহণ করে অথবা দর্শক হয়ে অথবা পক্ষাবলম্বন করে মানুষ অশেষ আনন্দলাভ করে থাকে । এতে মানুষের একঘেসেমি দূর হয়ে মনে আনন্দ জাগে , মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে , কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায় ।

Leave a Reply