জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব

 বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তনে বিপন্ন মানুষের জীবন । শুধু মানুষ নয় পশু – পাখিসহ সমস্ত জীবকুল । অপরিময় ক্ষতির দ্বারপ্রান্তে উপনীত । ইতোমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ফলে মাত্রাতিরিক্ত খরা , অতিবৃষ্টি , প্লাবন , মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি , নদীর নাব্যতা হ্রাস , পানিতে লবণাক্ততা , সাইক্লোন , সুনামি , জলোচ্ছ্বাস , ভূমিধস , ভূমিকম্প , নই ভাঙন , রোগ সংক্রমণসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আজ নিত্যসঙ্গী । বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত তথ্য মতে , এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি মানুষ হিমালয়ের হিমবাহ থেকে নির্গত পানির ওপর নির্ভরশীল কিন্তু এ হিমবাহগুলো অতিদ্রুত গলে যাচ্ছে । ফলে প্রকৃতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে । এর ক্ষতিকর প্রভাবে একদিকে যেমন প্রবল বন্যা কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে অন্যদিকে প্রচণ্ড খর দেখা দিতে পারে । এছাড়াও এরূপ প্রভাবে দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ সম্পূর্ণ তলিয়ে যাবে ।বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যাবে ।

জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব

এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনেক দ্বীপপুঞ্জ আছে , যেগুলো মাত্র ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই পুরোপুরি ডুবে যাবে । অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ এজন্য যে এ কৃষিপ্রধান দেশে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব এক্ষেত্রেই মহাসংকটে ফেলবে ।

জনস্বাস্থ্যে জলবায়ুর প্রভাব ও জলবায়ুর পরিবর্তনের

জনস্বাস্থ্যে জলবায়ুর প্রভাব ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে যেমন অর্থনৈতিক ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে । ফলে আমাদের মতা  দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সত্যি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে । অবশ্য ইতোমধ্যেই এ ধরনের দুর্যোগের আলামত পাওয়া যাচ্ছে । যেমন মা ও শিশুরা নানাভাবে আক্রান্ত হচ্ছে । সীমাহীন দাবদাহে কিংবা প্রচণ্ড শীতে শিশুদের জ্বর , সর্দি – কাশি , ডায়রিয়া ও নিউমেনিয়ার মতো  মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে । প্রতি শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে অধিকসংখ্যক শিশু মারা যায় । বয়স্কদের মধ্যে হৃদরোগ , বহুমূত্র , কিডনির সমস্যা , যক্ষ্মা , চর্মরোগ ও মানসিক বৈকল্য দেখা দেয় । এছাড়াও ডেঙ্গু , সোয়াইন ফ্লু সহ নানা ধরনের রোগের প্রকোপ থেকে কোনো  মানুষই আজ নিরাপদ নয় । আবার জলবায়ুর এ ধরনের প্রভাবে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা যাচ্ছে । জীববৈচিত্র্য ও বাংলাদেশ : একথা ঠিক ‘ ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই চিরসবুজ বাংলাদেশ জলবায়ুর করুণ পরিণতির কাছে আজ বড় অসহায় । ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক নদী ভাঙন , খরা আর অতিবর্ষণে যেমন ভূ – ভাগের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তেমনি অনেক জীব তার স্বাভাবিক আবাসস্থল হারিয়ে অস্তিত্বের চরম সংকটে পড়েছে ।

তবে অনেক ক্ষেত্রে কিছু জীব প্রায় বিপন্ন হয়েছে । প্রকৃতিতে এ ধরনের নেতিবাচক প্রভাবে মানবহিতৈষী কিছু বৃক্ষ আজ আর চোখে পড়ে না । অথচ এগুলো আমাদের চিকিৎসাশাস্ত্রে অত্যন্ত মূল্যবান । অতিবর্ষণ আর বন্যায় সাজানো  – গাছো  জনপদ বিলীন হচ্ছে ; ফলে জনজীবনে ব্যাপক হতাশার জন্ম নিচ্ছে । সীমাহীন কৃষিজমি নদীগর্ভে নিমজ্জিত হচ্ছে কিংবা ধু ধু বিরান বালুকাময় অনুর্বর ভূমিতে পরিণত হচ্ছে । ফলে যেকোনো মুহূর্তেই এদেশে খাদ্যসংকট ঘটাও অস্বাভাবিক কিছু নয় । সর্বোপরি এক চরম সংকটে আছে মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্য । জলবায়ুর এ ধরনের আচরণে সৃষ্ট সংকটে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির একটি চিত্র অনেকে তুলে ধরেছেন ।

বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ

নানা তথ্য – উপাত্ত ও সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে , ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জলবায়ুর প্রত্যক্ষ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে প্রায় ৪১,৩০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি সাধিত হয় । এছাড়াও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে , মৌসুমি বায়ুর গতিপথ পরিবর্তন , অনিয়মিত বৃষ্টিপাত , খরা , বন্যা , সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ৩ কোটি লোক  গৃহহারা হতে পারে । ফলে পৃথিবীব্যাপী গৃহহারা মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যেতে পারে । এ প্রসঙ্গে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক নবম্যান আইরিস – এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে , ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় ২০ কোটি মানুষ গৃহহারা হবে । এছাড়াও আইপিসিসি – এর চতুর্থ সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে , বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৮৩,০০০ হেক্টর  

এছাড়াও ২০৫০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধানের উৎপাদন শতকরা আট ভাগ হ্রাস পাবে । এবং গমে উৎপাদন ৩২ শতাংশ কমে যাবে । সুতরাং উপযুক্ত তথ্য – উপাত্ত ও জলবায়ুর প্রভাবের প্রত্যক্ষ ফল বাংলাদেশের জন্য । এক বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । জলবায়ুর এরূপ হিংস্রতা থেকে মুক্তির পথ বের করতে হবে । পৃথিবীর পরিবেশবাদী মাছিকামী মানুষের সঙ্গে তাই বাংলাদেশও চ্যালেকে গ্রহণ করেছে । সম্পৃক্ত হয়েছে বহুবিধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মুন , নেয়া হয়েছে নানা ধনের উদ্যোগ ।

বিশ্ব সম্মেলেন

১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল মার্কিন সিনেটর নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন । সেই থেকে বিশ্বের শক্তিকামী মানুষ বেশে বিপর্য ব্রক্ষার্থে এ দিবস পালন করে যাচ্ছে । বাংলাদেশও এ দিবসটি গুরুত্ব সহকারে উদ্যাপন করে । বাংল | এই মমলনে রূপরেখা পেশ করে । ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ধরিত্রী সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জলবায়ুর হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল । এর ২০ বছর পর ব্রাজিলের রিও – ডি – জেনেরিও নগরীতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জলবায়ুর বিপর্যয় সকাযে টেকসই উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ করেন । এ সম্মেলনে সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড . আতিউর রহমান আখ করেন যে , সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ইতো মধ্যেই সোলার প্যানেল ও ব্রিক ফিল্ডে কার্বন নির্গমন কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি হলে অয়ন করেছে । তবে এ সম্মেলনে বিশ্ব – সম্প্রদায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সহায়ক হিসাবে খাদ্য , পানি ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে । আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে মডেল হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন ।

Leave a Reply