টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল

কালকরােনা মহামারি ভারত থেকে এল আরও ৫০ লাখ টিকা । টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল । প্রথমে টিকা পেতে পারেন ২০ জন । বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা নির্ধারিত সময়ে ভারত থেকে করােনার ৫০ লাখ টিকা দেশে এসেছে । এখন দেশে ৭০ লাখ টিকার মজুত আছে । এই টিকা পাওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করার অ্যাপও চূড়ান্ত হয়েছে । কাল টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন হওয়ার পর মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে । টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মােকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপও নিয়েছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন , সুষ্ঠুভাবে করােনার টিকা দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে । গতকাল সােমবার স্বাস্থ্যকর্মীদের করােনার টিকাদান প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে । জেলায় জেলায় অগ্রাধিকার পাওয়া জনগােষ্ঠীর তালিকা তৈরি হচ্ছে । খুব শিগগির ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে করােনার টিকা পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো ফার্মা । ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দেশব্যাপী একযােগে টিকাদান শুরু হবে ।

টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করােনার টিকাদান কর্মোদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানাে হয় । অনুষ্ঠানে অনলাইন নিবন্ধন করার জন্য তৈরি করা অ্যাপ । কীভাবে ব্যবহার করতে হবে , তা সাংবাদিকদের দেখানাে হয় । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ( এমআইএস ) , তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এটুআই কর্মসূচি যৌথভাবে এই অ্যাপ তৈরি করেছে । এক দিন পর টিকাদান শুরু হবে । গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত করােনার টিকাদান কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতিবিষয়ক সভা শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মােহাম্মদ খুরশীদ আলম প্রথম আলােকে বলেন , ‘ আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ঠিকঠাক চলছে । আশা করি , সুষ্ঠুভাবে দেশের মানুষকে করােনার টিকা দেওয়া সম্ভব হবে । নির্ধারিত সময়ে টিকা এল গতকাল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়ােজাহাজ ভারতের সেরাম ইনষ্টিটিউটের তৈরি করা ৫০ লাখ টিকা নিয়ে বেলা ১১ টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক |

স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদান প্রশিক্ষণ শুরু

অগ্রাধিকার পাওয়া জনগােষ্ঠীর তালিকা তৈরি হচ্ছে । । শিগগিরই ৬৪ জেলায় টিকা পৌঁছানাে হবে । । ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দেশব্যাপী একযােগে টিকাদান শুরু । বিমানবন্দরে অবতরণ করে । বিমানবন্দরে এই টিকা গ্রহণ করেন বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান । বাংলাদেশ সরকার , বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরাম ইনষ্টিটিউটের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী সরকার তিন কোটি টিকা কিনছে সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে । বেক্সিমকো এই টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে । গতকাল টিকার প্রথম চালান । এসেছে । এভাবে আরও পাঁচটি চালান আসার কথা । এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের উপহার হিসেবে দেশে ২০ লাখ টিকা এসেছে । ভারত থেকে আসা টিকা বিমানবন্দর থেকে বেক্সিমকোর টঙ্গী সংরক্ষণাগারে নিয়ে যাওয়া হয় । বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের নাজমুল হাসান বলেন , খুব শিগগির এই টিকা ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো । গত পরশু তিনি বলেছিলেন , সিভিল সার্জনদের দেওয়ার আগে । টিকার মান জেনে নেওয়া হবে । অ্যাপি প্রস্তুত টিকা পাওয়ার জন্য আগ্রহীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে । গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়ােজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অপি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে , কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে , তা সাংবাদিকদের দেখানাে হয় ।

সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন , অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর অবশ্যই দরকার হবে । যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই , তিনি নিবন্ধন করতে পারবেন না । আপাতত করােনার টিকাও পাবেন না । অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন শেষ হলে একটি কার্ড ইস্যু হবে নিবন্ধনকারীর নামে । এই কার্ড সুবিধামতাে জায়গা থেকে নিবন্ধনকারী প্রিন্ট নিতে পারবেন । টিকা গ্রহণের দিন ওই কার্ড কেন্দ্রে আনতে হবে । আর কোন দিন টিকা নিতে হবে , তা মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে । তবে গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের একজন । কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন , ২৭ তারিখ প্রধানমন্ত্রী টিকাদান অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন । তারপর নিবন্ধনের জন্য অ্যাপ উন্মুক্ত করা হতে পারে । একসঙ্গে বহু মানুষ নিবন্ধনের উদ্যোগ নিলে অ্যাপে প্রযুক্তিগত চাপ পড়তে পারে । তাই অগ্রাধিকার পাওয়া শ্রেণি – পেশার মানুষ শুরুর দিকে নিবন্ধন করবেন , এটাই তাদের প্রত্যাশা । তবে অনলাইনে নিবন্ধনের বিকল্প হিসেবে অগ্রাধিকার পাওয়া মানুষের তালিকা তৈরি করতে উপজেলা , জেলা ও সিটি পােরেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ।

টিকা নেওয়ার পর

গ্রহীতাকে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট টিকাদান স্থানে রেখে দেওয়া হবে । তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে । কোনাে সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি করা ‘ কোভিড -১৯ টিকাদান সহায়িকা বলা হয়েছে , কিছু ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে । এর ফলে চোখমুখ ফুলে যায় , শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হয় , রক্তচাপ কমে যায় , নাড়ির স্পন্দন দ্রুত হয় , বমি বমি ভাব দেখা দেয় , অজ্ঞান হারিয়ে যায় । এ রকম পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে টিকাদান সহায়িকায় । ব্যবস্থাপনা কী করতে হবে এবং কোন ওষুধ প্রয়ােগ করে চিকিৎসা করতে হবে , সে বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন , এ রকম পরিস্থিতি মােকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি আছে । করােনার সব টিকাকেন্দ্র হচ্ছে হাসপাতালে । বড় কোনাে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই ।

Leave a Reply