দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ই-মেইল ব্যবহার

বিশ শতকের ধ্যান – ধারণা , নীতিকাঠামাে , মানুষে মানুষে যােগাযােগ , রাষ্ট্র ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক , দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ধরন , অর্থনীতি , সমাজনীতি সবকিছু উনিশ শতকে এসে প্রযুক্তির কারণে বদলে গিয়ে নাটকীয় এক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে । প্রযুক্তির এমন অবাধ – বিস্তার ও ক্রমবিকাশের ধারায় ই – মেইল সাম্প্রতিক সময়ের দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি যাগাযােগ মাধ্যম । আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার । বস্তুত বিশ্বব্যাপী যােগাযােগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রসারে এটা সর্বাধুনিক ও সর্বশেষ মাধ্যম । মুহুর্তের মধ্যে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে খরবাখবর পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর চেয়ে উন্নত মাধ্যম আর নেই । এ অদৃশ্য যােগাযােগ প্রক্রিয়াটি পৃথিবীর সকল মানুষকে একসূত্রে গেঁথে ফেলেছে । এভাবে ই – মেইল বিশ্বমানবের যােগাযােগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মােচন করেছে । ই – মেইল বলতে যা বােঝায় । ই – মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল হলাে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য আদান – প্রদান ব্যবস্থা । ই – মেইলের মাধ্যমে টেক্সট বার্তার সঙ্গে কম্পিউটার ফাইলও পাঠানো যায় । লােকাল ।

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ই-মেইল ব্যবহার

এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সীমিত স্থানের মধ্যে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের যেকোনাে স্থানে ই – মেইল পাঠানো যায় । ডাকযােগে চিঠি পাঠাতে হলে যেমন ঠিকানা প্রয়ােজন , তেমনি ই – মেইল পাঠাতেও ঠিকানা প্রয়ােজন । ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের ঠিকানা আছে । ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারের সাথে সংযােগ নেওয়ার সময় এ ঠিকানা সরবরাহ করা হয় । বস্তুত ই মেইলের ধারণাটি প্রচলিত ডাক ব্যবস্থার মতােই । একটি জিপিওতে যেমন অনেকের নামে পােস্ট বক্স থাকে , তেমনি ই – মেইল পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর একটি ই – মেইল বক্স থাকে । এই বক্সের ইনবক্স ও আউটবক্স অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ডাক সংরক্ষণ করে ।

ই – মেইল উদ্ভাবন

১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ই – মেইলের সূত্রপাত ঘটে । বিশ্বের দুই পরাশক্তি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম স্নায়ুযুদ্ধের কারণে উভয়পক্ষের সমরবিশারদগণ পারমাণবিক বােমার আতঙ্কে ভীত – সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন । এমতাবস্থায় যােগাযােগ মাধ্যমকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য টেলিযােগাযােগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ই – মেইল পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয় । অতঃপর ই – মেইলের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । এ পদ্ধতিতে গ্রাহকগণ অপেক্ষাকৃত কম খরচে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যােগাযােগ ও তথ্য আদান – প্রদান করতে পারে । বস্তুত ইন্টারনেট প্রযুক্তির চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধনে ‘ ই – মেইল একটি অভূতপূর্ব উদ্ভাবন ।


ই – মেইলের কার্যপ্রক্রিয়া

ই – মেইল সেবার ক্ষেত্রে তিনটি জিনিসের একান্ত প্রয়ােজন , তা হলাে- কম্পিউটার , মডেম এবং টেলিফোন । কম্পিউটারকে সংযুক্ত হতে হয় একটি টেলিফোন লাইনের সঙ্গে এবং উক্ত কম্পিউটারটিতে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার থাকা বাঞ্ছনীয়— যা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা সংবলিত । ইন্টারনেট সংযােগ প্রদানকারী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক হওয়ার পর নিজস্ব ই – মেইল সংযােগ পাওয়া যায় । ই – মেইল পদ্ধতিতে গ্রাহকগণ নিকটবর্তী কোনাে সার্ভারকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তথ্য আদান – প্রদান করে থাকে । প্রধান প্রধান শহরে স্থাপিত সার্ভারসমূহ ইন্টারনেটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রধান সার্ভারের সঙ্গে সমন্বিত থাকে । সাধারণ গ্রাহকগণ লােকাল কলের মাধ্যমে প্রধান শহরে স্থাপিত সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হয়ে তথ্যসমূহ উক্ত সার্ভারে প্রেরণ । করে । দিনের নির্দিষ্ট কোনাে সময়ে সার্ভারে জমাকৃত সকল তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রধান সার্ভারে । সেখান থেকে তথ্যসমূহ চলে যায় স্ব – স্ব ঠিকানায় ।

উপযুক্ত কাজটি অতি দ্রুত সম্পন্ন হয় । ই – মেইল নেটওয়ার্কের সাহায্যে পৃথিবীব্যাপী বিশাল যােগাযােগ মাধ্যমকে অল্প খরচে সবাই ব্যবহার করতে পারে এবং এর কার্যপ্রক্রিয়া এত দ্রুত যে , দূরকে আর দূর বলেই মনে হয় না । বিশ্বকে মনে হয় নিছকই বড় একটি গ্রাম ।

ই – মেইলের সুযােগ – সুবিধা

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনাে স্থানে ই – মেইল পাঠিয়ে যােগাযােগ করা সম্ভব । একটি টাইপ করা মেইল একাধিক ই – মেইল অ্যাড্রেসে প্রেরণ করা যায় । এক্ষেত্রে বারবার টাইপ করার প্রয়ােজন হয় না । ই – মেইলের মাধ্যমে টেক্সট ডকুমেন্ট দ্বারা সরাসরি যেকোনাে কম্পিউটারে যােগাযােগ করা যায় । বস্তুত সরাসরি চিঠি প্রাপ্তি জন্যই ইলেকট্রনিক পদ্ধতির চিঠি হিসেবে ই – মেইলের উদ্ভাবন ও প্রচলন হয়েছে । স্বল্পতম সময়ে যােগাযােগের মাধ্যম হচ্ছে ই – মেইল । বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ই – মেইল যেতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে । ব্যবসায়িক যােগাযােগের ক্ষেত্রে ই – মেইল এক অভাবনীয় আবিষ্কার । ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য ও ব্যবসায়িক খোঁজ – খবরের জন্য ই – মেইল ব্যবহার করে । বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আত্মীয় – স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যােগাযােগের ক্ষেত্রে ই – মেইল সত্যিই একটি উত্তম মাধ্যম ।

Leave a Reply