প্রাকৃতিক দূর্যোগ লক্ষন ও প্রতিকার

সাইক্লোন ও জলােচ্ছাস সাইক্লোন ও জলােচ্ছাস এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ । এ দুর্যোগ প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে কম বেশি আঘাত হানে । বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ১৯৭০ , ১৯৯১ , ২০০৭ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের সাইক্লোন ও জলােচ্ছাস ছিল খুবই ভয়াবহ । এসব সাইক্লোন ও জলােচ্ছাসে ১৯৭০ সালে প্রায় ৫ লাখ , ১৯৯১ সালে প্রায় দেড় লাখ এবং ২০০৭ সালে প্রায় লক্ষাধিক লােকের প্রাণহানি ঘটে । আশ্রয়চ্যুত হয় লক্ষ লক্ষ নারী – পুরুষ । এ সাইক্লোন ও জলােচ্ছাসের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ যােগাযােগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় , লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু । ফলে মানুষ পতিত হয় অবর্ণনীয় দুঃখ – দুর্দশায় ।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ লক্ষন ও প্রতিকার

প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঝড় লক্ষন

গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আমাদের দেশে প্রতি বছরই অনেক ঝড় – ঝঞা সংঘটিত হয়ে থাকে । এসব ঝড় সাধারণত বৈশাখ ও আশ্বিন মাসে হয় । ঝড়ের তাণ্ডব নৃত্যে এদেশের প্রচুর ঘর – বাড়ি এবং খেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত অনাবৃষ্টি বা খরা : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ । এদেশের কৃষিব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল । কিন্তু প্রকৃতির হেয়ালিপনার শিকার এদেশ প্রায় প্রতি বছরই অনাবৃষ্টি বা খরার মতাে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পতিত হয় । খরার প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায় । বৈশাখ – জ্যৈষ্ঠ মাসে সংঘটিত খরার প্রকোপে ব্যাপক ফসলাদিসহ জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে । খরার হিংস্র থাবার ফলে দেখা দেয় খাদ্যাভাব ও বিভিন্ন রােগ – শােক ।

নদী ভাঙন

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে গেছে হাজারাে ছােট – বড় নদী । নদীর ধর্মই হলাে— এপাড় ভেঙে ওপাড় গড়া । কিন্তু নদীর এ সর্বনাশা ভাঙন এক মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ । প্রতি বছরই এদেশের প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । এ দুর্যোগের কবলে পড়ে এদেশের বহু লােককে তাদের ঘর – বাড়ি , ধন – সম্পদ হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবনযাপন করতে হয় ।ভূমিকম্প : প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ভয়াবহ রূপ হচ্ছে ভূমিকম্প । বিভিন্ন কারণে এদেশে মাঝে মাঝে ছােট – বড় ভূমিকম্প আঘাত নে । তবে অন্যান্য বছরের মতাে ভূমিকম্প আঘাত হানলেও ২০১৫ সালের ভূমিকম্প ছিল ভয়ানক । একই সালে কয়েকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে । এতে বিভিন্ন এলাকায় দালান – কোঠা ধসে যাওয়াসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় । যদি ভূমিকম্পের মাত্রা বাড়ে তাহলে বাড়ি – ঘর , রাস্তা – ঘাট ভেঙ্গে পড়ে , যােগাযােগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ জানমালের মারাত্মক ক্ষতি হয় । ভূ – তাত্ত্বিকরা বাংলাদেশের উত্তর – পূর্বাঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন । পার্বত্য চট্টগ্রাম , সিলেট , ময়মনসিংহ ও রংপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার আওতাভুক্ত । লবণাক্ততা : সমুদ্র তীরবর্তী এদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে লবণাক্ততা । সমুদ্রের লবণাক্ত পানির প্রভাবে এদেশের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল লবণাক্ত থাকে । এতে কোনাে ফসল উৎপাদিত হয় না

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরােধের উপায় বা দুর্যোগ মােকাবিলা করার উপায়

বিশ্বের সকল বিজ্ঞানীই একমত যে , জলবায়ু দূষণের কলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে । জলবায়ু দূষণের ক্ষেত্রে পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলােই বেশি দায়ী । বাংলাদেশসহ দরিদ্র দেশগুলাের দায় অনেক কম , কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি । কাজেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে বা একে মােকাবিলা করতে হলে সারা বিশ্বকেই একযােগে উদ্যোগ নিতে হবে । বাংলাদেশের মতাে দরিদ্র দেশগুলােকে রক্ষার জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলােকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাহায্য দিতে হবে । তা দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলাে উপকূলে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করে এবং বাঁধের ওপর ও আশেপাশে ব্যাপক বনায়ন করে সাইক্লোন , ঘূর্ণিঝড় ও জলােচ্ছাসের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে অনেকটা প্রতিরােধ গড়ে তােলা যায় ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মােকাবিলা করার জন্য নিমােক্ত উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে :

  • পৃথিবীর সব দেশ বিশেষ করে শিত্তান্নত দেশগুলাে যদি সমঝােতার মাধ্যমে অন্তত ১০/১৫ বস্তু হি হট গদ । কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে । ।
  • গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে হলে জ্বালানি পােড়ানাে কমাতে হবে ।
  • । উন্নয়ন বান্ধব কার্বন কনটেন্ট বানাতে হবে ।
  • জলবায়ু দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিল্পকারখানার মালিক ও জনগণকে সচেতন হতে হবে । এ ব্যাপারে সরকারকে বলত উদ্যোগ নিতে হবে ।
  • কলকারখানার বর্জ্য ও শহরের মল – মূত্র ও আবর্জনা সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশােধন করে ফেলতে হবে ।
  • বায়ু দূষণ রােধকল্পে প্রতিটি দেশের মােট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনালে থাকা একান্ত আবশ্যক । কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৬ % বলা হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে আছে ১ % থেকে ১০ % । সুতরাং পরিবেশ রক্ষার জন্য অর্থ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যাপকভাবে বনায়ন ব্রতে হবে । বনভূমি উজাড়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে গাই কাটা বন্ধ করতে হবে ।
  • পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে বন গড়ে তুলতে হবে ।
  • কৃষি জমি , জলাভূমি , পাহাড় ইত্যাদি ধ্বংস করে বসতবাড়ি বা লকারখানা নির্মাণ বন্ধ রতে হবে । এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে ।
  • দেশের ছােট – বড় সকল নদীকে পর্যায়ক্রমে ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়াতে হবে ।
  • যে নদী মরে গেছে বা যাচ্ছে সেগুলােকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়াতে হবে ।
  • দুর্যোগ ঘটার পূর্বে জনগণকে সতর্ক করতে হবে ।
  • সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে । সেজন্য প্রয়ােজনীয় নিরাপদ জায়গা বা হুজ বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে ।
  • দুর্যোগ মােকাবেলায় নিয়ােজিত কর্মীবাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে । এসব কাজে এবং স্থাপনা নির্মাণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য নিতে হবে ।

Leave a Reply