বােগ প্রতিরােধের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আবদান

এমন কিছু রােগব্যাধি আছে , যা প্রতিরােধের জন্য বিজ্ঞান পূর্বেই ব্যবস্থা নির্দেশ করেছে । যেমন শিশুর জন্মের পর বিভিন্ন মেয়াদে ডি.পি.টি. পােলিও , হাম , গুটি বসন্ত , যক্ষ্মা , হুপিংকাশি , ধনুষ্টংকার , ডিপথেরিয়া , হেপাটাইটিস ইত্যাদি টিকা দেওয়া হচ্ছে । ফলে অনেক রােগ দেহে সৃষ্টি হওয়ার আগেই প্রতিরােধক ব্যবহৃত হচ্ছে । নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে অগণিত শিশু । রােগ নির্ণয় এবং রােগ প্রতিরােধের ব্যবস্থাই চিকিত্সাক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অবদান । এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বড় সাফল্য হলাে বিভিন্ন রােগ নিরাময়ের জন্য নানা রকম ঔষধপত্রের আবিষ্কার । এক সময় দুরারােগ্য ব্যাধির চিকিৎসার কোনাে ব্যবস্থাই ছিল না । বিজ্ঞান সেসব রােগ নিরাময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে । যেমন- যক্ষ্মার ব্যাপারে একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলিত ছিল যে , ‘ যার হয় যক্ষ্মা তার নেই রক্ষা ‘ । এখন আর যক্ষ্মা কোনাে দুরারােগ্য ব্যাধি নয় ।

বােগ প্রতিরােধের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান আবদান

তাছাড়া ভয়ংকর জলাতংক রােগ , কুষ্ঠরােগ ইত্যাদি নিরাময়ের জন্যও বিজ্ঞান কার্যকর ঔষধ ও ইনজেকশন আবিষ্কার করেছে । বর্তমান বিশ্বে যে দুটি রােগ সবচেয়ে দুরারােগ্য বলে গণ্য হচ্ছে তা হলাে ক্যানসার ও এইডস । এই দুটি রােগের চিকিৎসার কোনাে সুব্যবস্থা করা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে উঠেনি । তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এর প্রতিরােধের উপায় নিরূপণের জন্য । এক কালের মহামারি বসন্ত রােগ থেকে মুক্তির জন্য আবিস্কৃত হয়েছে ভ্যাক্সিন ।

রােগ নিরাময়ে বিজ্ঞান

মানবদেহে অন্য মানুষের হৃৎপিণ্ড সংযােজনের মতাে অলৌকিক ক্ষমতা বিজ্ঞানেরই এক বিস্ময়কর অবদান । এখন আবার কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড তৈরি করা হচ্ছে এবং রােগীর দেহে সংযােজন করে তা দীর্ঘদিন । কর্মক্ষম রাখার কৃতিত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তও বিজ্ঞানেরই সৃষ্টি । প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে আজকাল অসুন্দর ও অমসৃণ চেহারাকে সুন্দর ও মসৃণ করা হয় । তারুণ্যকে কীভাবে স্থায়ী করা যায় , সে বিষয়েও বিজ্ঞান নিরন্তর গবেষণা অব্যাহত রেখেছে ।

আশা করা যায় , অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য রােগের মতাে সমস্ত রােগ ব্যাধি নিরাময়ের ব্যবস্থাই বিজ্ঞান নিশ্চিত করতে পারবে । বিজ্ঞান চিকিৎসাক্ষেত্রের বড় আশীর্বাদ : বিজ্ঞান বিশ্বসভ্যতায় বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে । বিজ্ঞান অনেক অসাধ্যকে বাস্তব রূপ দান করেছে । বিজ্ঞান অন্যান্য ক্ষেত্রে আশীর্বাদ ও অভিশাপ বয়ে আনলেও চিকিৎসাক্ষেত্রে এনেছে শুধু আশীর্বাদ । এ ব্যাপারে কিপলিং বলেন , “ বিজ্ঞানের আশীর্বাদে বিশ্বমানবতা কখনাে উল্লসিত হয় , আবার কখনাে তার বিভীষিকাময় রূপে বিশ্বসভ্যতাকে থামিয়ে দেয় , কিন্তু চিকিত্সার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এনেছে শুধুই আশীর্বাদ । ”


চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের নতুন সংযােজন

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে— যা বিশ্ব সভ্যতায় যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছে । জেনেটিক টেকনােলজির রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দুরারােগ্য ব্যাধি শনাক্ত ও চিকিৎসা আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে । ইতােমধ্যে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড সৃষ্টির পথ বিজ্ঞান উন্মোচন করেছে । আবার কৃত্রিম রক্ত , প্রােটিন ইত্যাদি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । টেস্টটিউব শিত্তর জন্মদান পদ্ধতিও বর্তমানে বাংলাদেশে চালু হয়েছে । মূলত বিজ্ঞানে তথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসম্ভব বলে কোনােকিছুই আর থাকছে না । চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যর্থতা : চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যেমন উন্নতি সাধন করছে পাশাপাশি এর কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে । চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যেমন মানবসমাজের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনছে আবার বিজ্ঞান – সৃষ্ট এ যন্ত্র সভ্যতার অবাধ বিকাশের কারণেও অনেক জটিল রােগের জন্ম হয়েছে , যা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে । বর্তমান সময়ে এই একটি মারাত্বক ব্যাধি । বিজ্ঞানীরা এখনও এ রােগের কোনাে স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারেনি । এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ব্যর্থতার পরিম দিয়েছে । সম্প্রতি সার্স , ইবােলা ভাইরাসও বিজ্ঞানকে ফাঁকি দিয়ে মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

উপসংহার

বিজ্ঞান বিশ্বসভ্যতার জন্য একাধারে আশীর্বাদ ও অভিশাপ দুটোই । তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান কেবল আশীর্বাদই নিয়ে এসেছে । প্রবাদ আছে যে , সুস্থ শরীরে সুস্থ মন বিরাজ করে । মানুষের এ সুস্থ শরীরের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য বিজ্ঞান নিঃসন্দেহে মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ।

Leave a Reply