মানব কল্যাণে যে সকল বিস্ময়কর অবদান কম্পিউটার

মানব কল্যাণে যে সকল বিস্ময়কর অবদান রয়েছে তার মধ্যে একটি অনন্য নিদর্শন কম্পিউটার । এতে দ্রুত উন্নয়নের সীমাহীন উপযোগিতা রয়েছে । এর সমস্যা সমাধানের ব্যাপকতা এবং এ ধরনের বহুগুণ কর্মক্ষমতা কম্পিউটারকে আজকের দিনে । করেছে মানুষের কার্যক্রমের নিত্যসঙ্গী । মানব জীবনের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে মহাশূন্যে গবেষণার কাজে কম্পিউটারের । ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে । অফিস , আদালত , কলকারখানা , ব্যবসা – বাণিজ্য সবখানেই কম্পিউারকে কাজে লাগিয়ে মানব । জবনকে অত্যন্ত সুখকর করে তুলেছে । সে সাথে কম্পিউটার আজকের জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে ।

মানব কল্যাণে যে সকল বিস্ময়কর অবদান কম্পিউটার

কম্পিউটার একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র । এ যন্ত্রটি ডাটা গ্রহণ করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতি দ্রুতগতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে । কম্পিউটার একটি তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার যন্ত্রও বটে । এতে তথ্য গ্রহণ , তথ্য নির্দেশ এবং তথ্য সংরক্ষণ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অগণিত জটিল সমস্যা নির্দেশ করতে পারে । তাই এটা একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র । এর কাজকর্ম বিচিত্রমুখী । হিসেবের যন্ত্র হিসেবে কম্পিউটার যোগ বিয়োগ, গুণ , ভাগ , সাজিয়ে জটিল অঙ্কের সমাধান করতে পারে । তার বিস্ময়কর ক্ষমতা আছে তথ্যাদির বিশ্লেষণে । তুলনা করা এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করা কম্পিউটার করে থাকে । তার সংযোগ আছে গণিত , যুক্তি ও সিদ্ধান্তমূলক কাজের সাথে । এর কাঠামোতে আছে ট্রানজিস্টার সার্কিট । আরও আছে টাইপ রাইটার , লাইন প্রিন্টার , কার্ড রিডার , কার্ড পাঞ্চিং মেশিন , ম্যাগনেটিক টেপ ইত্যাদি । এসবের যথার্থ সংযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কম্পিউটার একটি বিচিত্র রূপের যন্ত্র ।

কম্পিউটার আবিষ্কার

মানব সমাজে এখন কম্পিউটার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে । জনপ্রিয়তা পেলেও কম্পিউটারের বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়েছে ।

  • ১৬৪২ সালে গণিতবিদ কেইলি প্যাসকেল যোগ বিয়োগ করার সক্ষম এমন একটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন ।
  •  ১৬৭১ সালে গডফ্রাইড লেবনিটজ গুণ ও ভাগের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর যন্ত্র তৈরি করেন ।
  • ১৮১২ সালে চার্লস্ ব্যাবেজ প্রথম আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতি পরিকল্পনা করেন ।
  • ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওআইবিএম কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে ইলেকট্রিক মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেন ।
  • ১৯৫৭ সালের পর কম্পিউটার যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় ।
  • ১৯৭১ সালের পর থেকে কম্পিউটার জগতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় ।

এরপর থেকে বর্তমান জগতকে কম্পিউটার দখল করে নেয় ।

কম্পিউটারের কাঠামো

কম্পিউটারের দুটো প্রধান দিক আছে ।

  • ( ক ) যান্ত্রিক ও
  • ( খ ) প্রোগ্রাম

 কম্পিউটারের যান্ত্রিক দিকটিকে বলা হয় হার্ডওয়্যার এবং প্রা প্রোগ্রামটিকে বলে সফটওয়্যার । তথ্য গ্রহণের জন্য প্রবেশ মুখ ব্যবহার হয় এরপর অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া – প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার হয় গাণিতিক অংশ । তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার হয় স্মৃতি । কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ হার্ডওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত । যান্ত্রিক অংশগুলো কার্যকর হয়ে উঠতে প্রোগ্রামর সাহায্য নিয়ে কম্পিউটারের ব্যবহার  কম্পিউটার যন্ত্রটি গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে তৈরি হলেও আজকের দিনে তাকে কাজে লাগানো  হচ্ছে না সেভাবে । কম্পিউটার এখন প্রযুক্তি বিদ্যা , মহাকাশ বিজ্ঞান , কৃষি বিজ্ঞান , রসায়ন , চিকিৎসা বিজ্ঞান , পদার্থবিদ্যা ইত্যাদির ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবেই কাজ করে যাচ্ছে । কোনো ক্ষেত্রেই কম্পিউটার আজ পিছিয়ে নেই । এখন খেলাধুলা , চিত্তবিনোদন সবখানেই কম্পিউটার কাজ করছে । পরিকল্পনা তৈরি , প্রকল্প বিশ্লেষণ , বন্যা নিয়ন্ত্রণের ডাটা সংগ্রহ , বিশ্লেষণ , শিক্ষা ব্যবস্থা , স্বাস্থ্যশিক্ষা , জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ , বাজেট প্রণয়ন , অর্থনৈতিক , সামাজিক , কারিগরি , পুস্তক ও পত্র পত্রিকা প্রকাশনা , ইলেকট্রনিক মিডিয়া , ইন্টারনেট , শিল্প বাণিজ্য সংক্রান্ত নানান কাজেই কম্পিউটার সহায়তা করে আসছে ।

বাংলাদেশে কম্পিউটার

 বাংলাদেশে কম্পিউটার এসেছে আশির দশকে । বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে এর আগমন ঘটলেও বর্তমানে তা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়ে অনেক অফিস , আদালত , কলকারখানায় কম্পিউটার তার নিজ আসন করে নিয়েছে । মুদ্রণ শিল্পে কম্পিউটার এক অসাধারণ সাফল্য লাভ করতে পেরেছে । উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে , বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার মানুষের বিচিত্র কর্মকাণ্ডের মধ্যে এক বৈপ্লবিক অগ্রগতি সাধনে অগ্রসর হতে পেরেছে । একে আমাদের জাতির জন্য আরও এগিয়ে নিতে হবে । সারা জগত আজ দ্রুত অগ্রগতিতে আছে । আমাদের অশিক্ষা , দরিদ্রতা , অনগ্রসরতা কাটিয়ে উঠে আগামী দিনগুলোকে সগৌরবে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা একান্ত দরকার । তাই কম্পিউটারকে সে অগ্রযাত্রায় সাথী করে নিতে পারলেই আমাদের দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ হবে নিশ্চিত ।

Leave a Reply