মানুষ শান্তিপ্রিয় জাতি

যুদ্ধ করা মানুষকে মানায় না । তবুও কখনাে কখনাে মানুষ পাশবিক যুদ্ধে মেতে ওঠে । রক্তে রঙিন হয় সভ্যতার সুচারু ক্যানভাস । এমন ধ্বংসযজ্ঞ সভ্য মানুষের কাম্য হতে পারে না । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যুদ্ধ সম্পর্কে বলেছেন নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস শান্তির ললিত বাণী শােনাইবে ব্যর্থ পরিহাস । মানুষের সবচেয়ে পুরনাে কৌশল । সভ্যতা গড়ে ওঠার আগেই শক্তি বৃদ্ধির জন্য , সম্পদ , সম্বল বৃদ্ধির জন্য এবং পরে রাজ্য জয়ের জন্য মানুষ যুদ্ধ করেছে । আদিম যুগের মানুষ খাবার শিকার নিয়ে লড়াই করেছে । শিকারের ভাগ একান্ত নিজের করে পেতে নিজেদের মধ্যে বাহুবলের প্রতিযােগিতা হয়েছে । ধীরে ধীরে যুদ্ধের কৌশল নানাভাবে বদলেছে । তরবারি থেকে এটম বােম পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে ।

মানুষ শান্তিপ্রিয় জাতি

ইতিহাস বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা

মানুষের ইতিহাসে এমন অনেক যুদ্ধ এসেছে , যেগুলােকে বলা হয় ধর্মযুদ্ধ কিংবা স্বাধিকার অর্জনের যুদ্ধ । যেমন : বদরের যুদ্ধ , একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ । পর পর দুটি বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয়েছে বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ বন্ধের আবেদন – নিবেদন । কিন্তু তবুও থেমে থাকেনি যুদ্ধ প্রস্তুতি । পৃথিবীর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ সব সময়ই লেগেছিল , এখনও লেগে আছে । যুদ্ধ কেন । মানুষের দুর্নিবার লােভ , স্বার্থপরতা , দুর্বলের প্রতি সবলের শােষণের উদগ্র বাসনা , উগ্র জাতীয়তার অহংকার , আধিপত্য বিস্তারের জন্য কুৎসিত ছলনা ও চাতুরীই যুদ্ধের কারণ । মূলত ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই যুদ্ধের সূত্রপাত । পৃথিবীতে আদিকাল থেকেই যুদ্ধ চলছে । পৃথিবীতে যুদ্ধের শেষ নেই । মানুষই মানুষের বুকে বিদ্ধ করে সিসার বুলেট । মােটর – কামান – গােলাবারুদের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় রক্ত – মাংসের দুর্বল দেহ । যুদ্ধ বন্ধের জন্য কত আবেদন – নিবেদন পৃথিবী জুড়ে । পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্মগুলাে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লেখা । বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করার জন্যই বিশ্বকবির আহ্বান “ অসি দিয়ে নয় , নির্ভার করে মবণ দিয়ে রণ জয় , অস্ত্রে যুদ্ধ জয় করা সাজে , দেশ জয় নাহি হয় । ” শাস্তির খোঁজে মানুষ । পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই সুখে – শান্তিতে জীবন উপভোগ করার আশা পােষণ করে । শত ব্যস্ততার মধ্যেও খোঁজে ফিরে নিবিড় শাস্তি ।

যুদ্ধ থেকে মুক্তির জন্য হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ শান্তির পথ অগেলণ করে ফিরছে । এমনকি মানুষ যুদ্ধ বিপ্লব করেও শাস্তি পেতে চাচ্ছে । মানুষকে শান্তির পথে আনার জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে পৃথিবীতে নবি – রাসূল পাঠিয়েছেন । পৃথিবীতে সকল ধর্মের পয়গম্বরদের একটাই আদর্শ পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা । যুদ্ধ – বিগ্রহ করে কেউ কখনো শাস্তি পায় না , বরং ‘ শান্তি ধ্বংস হয় , অশাস্তির দাবানল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে । সুতরাং সকল প্রকার যুদ্ধ – বিগ্রহ বগা করে থামাদেরচে । শান্তির পতাকা তলে শামিল হতে হবে । |

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থান ‘ ইউরােপ । এ যুদ্ধ ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল । এই যুদ্ধের প্রধান কারণ হলাে ৫০ বছর ধরে ইউরােপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা । শুরুতে প্রধান প্রতিদ্বন্ধ ছিল অষ্ট্রিয়া , হাঙ্গেরী , | জার্মানি , রাশিয়া , ফ্রান্স ও ব্রিটেন । অস্ট্রিয়া , হাঙ্গেরী ও জার্মানিকে ইউরােপের কেন্দ্রীয় শক্তি এবং রাশিয়া , ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে মিহরাষ্ট্র বলা হয় । এ যুদ্ধে তুরস্ক , বুলগেরিয়া , ইতালি , জাপান ও পরে আমেরিকা অংশ নেয় । ১৯১৮ সালে চুক্তির মাধ্যমে পপম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় । সন্ধিতে আক্রমণের জন্য জার্মানি ও সহযােগী দেশপ্তলােকে দায়ী করা হয় ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুপক্ষের সাড়ে ৫ কোটি সৈন্যের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ সৈন্য মারা যায় । ১ কোটি ২০ লাখ সৈন্য এবং এ কোটি ১০ লক্ষ সাধারণ মানুষ আহত হয় । আহতদের মধ্যে ৭০ পাপ লােক সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে যায় । এছাড়া যুদ্ধের কারণে আক্রমণ , হত্যাকাণ্ড , দুর্ভিক্ষ আর মহামারির চালে অসংখ্য বেসামরিক লােক মারা যায় । “ গ্যপিক দিক থেকেও এ পৃদ্ধি ছিল অত্যন্ত ব্যয় বহুল । মিত্রদেশগুলাে , জার্মানি ও সহযোগী দেশপলাে যুদ্ধ চালাতে ১৮৬ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে । জল ও স্থলে ক্ষতিগন্ত সম্পর্কিন সমটি ব্যয় দাড়ায় ৪৩০ বিলিয়ন পাউন্ত । এ যুদ্ধে ব্রিটিশরা প্রথম ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে ।

Leave a Reply