স্রষ্টার এক অপরূপ সৃষ্টি সমুদ্র

স্রষ্টার এক অপরূপ সৃষ্টি সমুদ্র । সমুদ্র প্রকৃতিতে আনে বৈচিত্র্য । সমুদ্রের বিশাল জলরাশি দেখে মনে হয় এর অতল গহ্বরে | লুকিয়ে আছে কত না অজানা রহস্য । সমুদ্রের বুকভরা জলরাশি কখনো  কখনো  চঞ্চল গতিতে ছুটে চলে , কখনো  বা আবার শান্তরূপ ধারণ করে । সব মিলিয়ে সমুদ্র তার অপরূপ সৌন্দর্যে সবাইকে আকর্ষণ করে । তাই মানুষ প্রতিনিয়ত ছুটে চলে সমুদ্রসৈকতে । আমার কল্পনায় সমুদ্রসৈকত ছোটবেলা থেকে বাবা – মা , বড় ভাই – বোনদের মুখে সমুদ্রসৈকতের অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনেছি । বড় আপুর সমুদ্রসৈকতে তোলা ছবি দেখে অভিভূত হয়েছি । তখন থেকেই সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য নিয়ে আমার কল্পনায় এক আবেশ সৃষ্টি হয়েছে । যখন স্কুল – কলেজে পড়ি তখন বই – পত্র পড়ে , বন্ধু – বান্ধব ও শিক্ষকদের কাছ থেকে সমুদ্রসৈকতের বর্ণনা শুনে আমার | কল্পনার সৈকতে আরও নতুন মাত্রা যোগ হয় । আমার কল্পনার সমুদ্রসৈকত ছিল বিশাল । যেখানে ছিল পানি আর ঢেউয়ের এক অদ্ভুত সুন্দর তরঙ্গ , ছিল বিস্তীর্ণ বালুচর , তীরে আছড়ে পড়া রাশি রাশি ঢেউ । আমার কল্পনার সমুদ্রসৈকত আমাকে ভাবুক করে তুলত ।

স্রষ্টার এক অপরূপ সৃষ্টি সমুদ্র

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

 বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত অন্যতম । এ সমুদ্রসৈকত শুধু বাংলাদেশ | নয় , পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত । এর দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার । এর চেয়ে বৃহৎ সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর আর কোথাও নেই । কক্সবাজার জেলায় বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে এ সমুদ্রসৈকত অবস্থিত । আমার সমুদ্রসৈকতে যাবার আগ্রহ যখন থেকে সমুদ্রসৈকতের বর্ণনা শুনেছি তখন থেকেই সমুদ্রসৈকতে যাবার জন্য আমার মন | উদগ্রীব হয়ে থাকত । সবসময়ে মনে স্বপ্ন  ভাবতাম কবে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যেতে পারব । মনে হয়তো  এখনই উড়ালপঙ্খির মতো | চলে যাই । কতবার বন্ধু – বান্ধবদের সাথে কলেজ থেকে যাবার চেষ্টা করলাম , যেতে পারলাম না । কলেজ থেকেও একবার শিক্ষা | সফরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা হয়েছিল । অবশেষে তাও বাতিল হয়ে যায় । তখন ভেবেছিলাম হয়ত আর | ভবিষ্যতেও যাওয়া হবে না । এভাবেই আমার স্বপ্ন প্রতিনিয়ত ভেঙে যাবে ।

সমুদ্রসৈকতে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আমার এইচএসসি পরীক্ষার পর আমার বড় ভাই একদিন আমাকে ডেকে বলল , তোকে নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যাব । কেমন হবে ? আমি তো এমন অপ্রত্যাশিত প্রস্তাবে আকাশ থেকে পড়লাম । বিস্ময়ে আমার চোখ – মুখ লাল হয়ে উঠল । আমার এতদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে , একথা ভেবে আমি যেন খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়লাম । হাসতে হাসতে ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম , শুধু কি আমরা দুজনেই যাব ? তখন ভাইয়া আমাকে চমক দিল যে , আমরা মামাতো চাচাতো সব ভাইবোন মিলে যাব । আমি তোকে  মহাখুশি হয়ে গেলাম । আগে কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে , সবাই একসাথে গিয়ে এভাবে মজা করতে পারব । তাভা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্যে যাত্রা : গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দশ তারিখ সকালবেলা আমরা ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । অবশ্য আগের দিনই আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই গুছানো ছিল এবং ভাইয়া বড়সড় একটা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে রেখেছিলেন । তাই নির্ধারিত সময়ে রওনা হতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি । সাথে করে আমরা কিছু খাবার ও পানীয় নিয়েছিলাম । গাড়ি দুরন্ত বেগে সামনের দিকে চলতে শুরু করল । আমি রাস্তার পাশের প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপখভোগ করলাম । যাওয়ার পথে দুই জায়গায় বিশ মিনিট করে বিরতি নিয়ে চা – কফি খেয়ে আমরা বিকেল পাঁচটার মধ্যে কক্সবাজার পৌঁছালাম । সেদিন আর আমরা ঘুরতে না বেরিয়ে পূর্বনির্ধারিত হোটেলের রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিলাম । পরদিন সকাল সকাল বের হতে হবে তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত করে ঘুমিয়ে পড়লাম । প্রাতঃকালীন সমুদ্রসৈকত খুব ভোরে আমরা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করলাম । তারপর সবাই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম । সমুদ্রসৈকতে পৌঁছে আমরা সবাই মিলে নীল দিগন্তে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখছিলাম । আমার কল্পনার

চিত্রপটের সাথে বাস্তবের এত মিল দেখে আমি বিস্ময়াভিভূত হয়ে গেলাম । আমি নিজেকে বিশ্বাস সুতে পারছিলাম । সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য এত নয়নাভিরাম । প্রাতঃকালীন সমুদ্রসৈকত তেমন কোলাহলপূর্ণ ছিল না । প্রকৃতির নির্মলতা আর সমুহঃ বিশালতায় নিজেকে যেন কোথায় হারিয়ে ফেললাম । মি – প্রহরে সমুদ্রসৈকতে সৈকতে ঘুরতে ঘুরতে আমরা সবাই অনেক ছবি তুলি । শামুক – ঝিনুক কুড়ানো, বালির ওপর আলপনা হত এসব নিয়ে আমরা অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়লাম । ঘুরতে ঘুরতে কখন যে দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে তা কেউই খেয়াল করতে পারিনি । সবাই এদিক – ওদিক ছোটোছুটি করে বেড়াচ্ছে । হঠাৎ ভাইয়া সবাইকে ডেকে খাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন । তখন ঠিকই ক্ষুধা – তৃষ্ণা অনুভব দুলাম । ভাইয়া আমাদেরকে তখন সৈকতের নিকটবর্তী একটা হোটেলে নিয়ে গেলেন । বাশমতি চালের ভাত , সামুদ্রিক ও বিভিন্ন দেশীয় সবজি ও ভর্তাসহ মুখরোচক তরকারি দিয়ে আমরা তৃপ্তিসহকারে দ্বিপ্রহরের আহার সম্পন্ন করলাম । খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার সৈকতে ঘুরতে আরম্ভ করলাম । দ্বিপ্রহরে সৈকতে ও তার আশেপাশের হোটেলগুলোতে মানুষের ভিড়

বিকেলবেলায় সমুদ্রসৈকতে

সমুদ্রসৈকতের বিকেলের দৃশ্য সত্যিই মনোরম । এসময় সৈকতের চারপাশ মানুষে সরগরম হয়ে থাকে । চারপাশে মানুষের কলরব আর সমুদ্রের ঢেউয়ের কলকল শব্দে প্রকৃতি যেন মুখরিত । দর্শনার্থীরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায় । কেউ ছবি তোলে , আবার কেউ কেউ শামুক – ঝিনুক কুড়ায় , আবার অনেকে দল বেঁধে পানিতে সাঁতার কাটে । আমরা সমুদ্রের জলে । নেমে সাঁতার কেটেছি । মনের উচ্ছাসে আমি পানিতে নেমে পড়লাম । আমার সাথে সাথে আমার সব ভাই – বোনেরাও নেমে পড়ল । বিকেলে সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে দেখা যায়  – বিচরণ করে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় । প্রেমিক – প্রেমিকার ভাবাবেগে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা পরস্পরকে উজাড় করে দিতে চায় । মোটকথা বিকেলের সমুদ্রসৈকতের অপূর্ব দৃশ্যাবলি আমার

Leave a Reply